দেশের খবর
স্কুলে ফি নৈরাজ্য: এটি কি নীরব চাঁদাবাজি নয়?
দেশে শিক্ষা কি ধীরে ধীরে একটি নিয়ন্ত্রণহীন বাণিজ্যে পরিণত হচ্ছে? বেসরকারি ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর দিকে তাকালেই এই প্রশ্ন সামনে আসে। অভিভাবকদের কাছ থেকে নানা নামে, নানা খাতে বিপুল অর্থ আদায় করা হচ্ছে, অথচ এসব ফি আদায়ের যৌক্তিকতা বা স্বচ্ছতা নিয়ে কার্যকর কোনো তদারকি নেই।
Admin
৯ জানুয়ারী, ২০২৬
13 views
Print
Share:
Link Copied!

সবচেয়ে গুরুতর ও বিস্ময়কর বিষয় হলো—একই স্কুলে একটি শ্রেণি থেকে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের আবার নতুন করে ভর্তি হতে বাধ্য করা হচ্ছে। ক্লাস টু থেকে ক্লাস থ্রিতে পাশ করেও ভর্তি ফি দিতে হয়। প্রশ্ন হলো, যে শিক্ষার্থী স্কুল ছেড়ে যায়নি, তার পুনঃভর্তির প্রয়োজন কোথায়? এটি কি শিক্ষা বোর্ডের কোনো নীতিমালা, নাকি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কৌশল?
প্রতি বছর “সেশন ফি” নামে কয়েক হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। অথচ শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মাসিক বেতন দেয়, পরীক্ষার ফি দেয়, বিভিন্ন কার্যক্রমের ফি দেয়। এরপরও প্রতিবছর সেশন ফি নেওয়ার কারণ কী—এই প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব অধিকাংশ স্কুলই দেয় না। আরও উদ্বেগজনক হলো, অনেক স্কুলে “স্পেশাল ফি” বা ভিন্ন নামে বছরে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এই অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয়, তার কোনো লিখিত হিসাব বা ব্যাখ্যা অভিভাবকদের দেওয়া হয় না।
অভিভাবকরা প্রশ্ন করেন—আমাদের সন্তান পাশ করার পরও কেন আবার ভর্তি হতে হবে? কেন প্রতি বছর একই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নতুন নামে টাকা আদায় করা হবে? কিন্তু এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কেউ নেই। স্কুল কর্তৃপক্ষ নির্বিকার, আর নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায়।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—শিক্ষা মন্ত্রণালয় কি এসব অনিয়ম সম্পর্কে অবগত নয়? নাকি অবগত থেকেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? বেসরকারি স্কুলগুলোর ফি কাঠামো, পুনঃভর্তি নীতি ও বার্ষিক ফি আদায়ের বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা ও কঠোর নজরদারি না থাকলে এই অনিয়ম বন্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
শিক্ষা কোনো বিলাসপণ্য নয়। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত ফি আর অজানা খাতে অর্থ আদায়ের কারণে শিক্ষা আজ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে। এখনই যদি কার্যকর তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করা হয়, তবে এই নীরব চাঁদাবাজির বোঝা বইতে হবে শুধু অভিভাবকদের নয়, পুরো সমাজকেই।
“একজন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক”
#news#দেশের খবর
Share:
Link Copied!
সম্পর্কিত খবর (Related News)
দেশের খবর•৬ মার্চ, ২০২৬
আন্দোলন শেষ, নির্বাচন শেষ — ত্যাগী কর্মীদেরও কি প্রয়োজন শেষ?

দেশের খবর•৫ মার্চ, ২০২৬
ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও জনসেবার অঙ্গীকারে সোহেলী পারভীন শিখা—লক্ষ্মীপুরে এমপি পদপ্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থান
দেশের খবর•৫ মার্চ, ২০২৬
