গুলশানে গাড়ি আটকের পর ফোনে হুমকি, ডিসি রওনকের বদলি নিয়ে প্রশ্ন

আলোচনা তৈরি হয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় প্রভাবশালী মহলের ফোনে হুমকির অভিযোগ ওঠার পরপরই বদলির আদেশ জারি হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রাতে গুলশান ডিসি সড়কে অভিযান চালান গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রওনক জাহান। অভিযানে তার সঙ্গে কয়েকজন সাংবাদিকও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় গাড়িটি আটক করা হয়।
এ সময় গাড়ির মালিক মোবাইল ফোনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ডিসির নাম, পদবি ও ব্যাচ নম্বর জানতে চাওয়া হয়। পরে তাকে ‘দেখে নেওয়া হবে’ বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনেই ঘটে বলে জানা গেছে।
ঘটনার কিছু সময় পরই ডিসি রওনক জাহানের বদলির আদেশ জারি হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—নিয়মিত আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে যদি এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তবে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কতটা নিশ্চিন্তে দায়িত্ব পালন করবেন?
তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বদলির কারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলছে, পুলিশ বিভাগে বদলি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে ঘটনাটির সময়কাল ও প্রেক্ষাপট ঘিরে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হলে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এতে বাহিনীর মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
রিপোর্টার: Admin মাহবুব আলম জুয়েল
ক্যাটাগরি: দেশের খবর
