ফেসবুক পোস্টে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের ‘নিজেই ড্রাইভারের তলপেটে লাথি মারেন, এরপর স্বামীসহ লোকজন দিয়ে বেধড়ক পেটান’

নওগাঁয় সিটবিহীন টিকিটে স্বামীর বাসযাত্রাকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে বাদল নামের এক বাসচালককে ডেকে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মণের বিরুদ্ধে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় সাপাহার সার্কেল অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনাকে ‘অমানবিক নির্যাতন’ অভিহিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেছেন, মেইনস্ট্রিম (মূলধারা) মিডিয়াগুলোতে এ ঘটনার তেমন প্রচার নাই। নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
বাস চালককে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত সার্কেল এসপি শ্যামলী রানী বর্মণ প্রসঙ্গে এবি জুবায়ের লেখেন, ‘আসলে তিনি নিজেই ড্রাইভারের তলপেটে সজোরে লাত্থি মারেন। এরপর তার স্বামীসহ লোকজন দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছেন বাস ড্রাইভার বাদলকে। বাদলের ভাষ্যমতে, পিটিয়েছে শরীরের গোপন জায়গাগুলোতে।’
এ ‘উদ্বেগজনক ঘটনাটি’ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচন আলাপের ফাঁকে একদমই চাপা পড়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এবি জুবায়ের।
তিনি তার ফেসবুক পোস্টে আরও লেখেন, ‘গতকাল নওগাঁ থেকে রাজশাহী যাওয়ার বাসে সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মণের স্বামী জয়ন্ত বর্মণের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয় বাস চালক বাদলের। দোষ ওনারই। উনি কেটেছেন সিটবিহীন টিকিট, কিন্তু উঠে আরেকজনের সিট দখল করে রাখেন। এতে বাসের সুপারভাইজার বাধা দিলে সে স্ত্রীর ক্ষমতার গরম দেখিয়ে বাসের ড্রাইভার এবং সুপারভাইজারকে হুমকিধামকি দিয়ে নেমে যান।’
এবি জুবায়ের লেখেন, রাতে সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মণ ওই বাসচালক তার অফিসে ডাকেন। এরপর স্বামীসহ লোকজন দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে ওই বাসচালক বাদলকে পিটিয়ে আহত করেন।
এ ঘটনা নিয়ে ‘সারাজীবন শ্রমিক অধিকার কার্ড খেলে রাজনীতি করা বামপন্থিদেরও কোনো মশাল মিছিল নাই! কেন নাই? বিপরীতের মানুষটা নিয়ে রাজনীতি করতে গেলে স্ববিরোধী হয়ে যায়? একদিকে শ্রমিক অধিকার কার্ড আরেকদিকে সংখ্যালঘু কার্ড?’ লেখেন এবি জুবায়ের।
রিপোর্টার: Admin
ক্যাটাগরি: দেশের খবর
