সোনাইমুড়ীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা: গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত
রাত এখন শুধু একটি ঘটনার স্মারক নয়; তা হয়ে উঠেছে আমাদের গণতন্ত্রের মানদণ্ডের এক কঠিন পরীক্ষা। অভিযোগ উঠেছে, ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের চিত্র ধারণ করতে গিয়ে ঢাকার সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন টিটু হামলার শিকার হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোটকেন্দ্রে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ছবি তুলতে গেলে একদল ব্যক্তি তাঁর ওপর চড়াও হয়। তাঁকে মারধর করা হয় এবং রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
ইসমাইল হোসেন টিটু কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী নন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি ঘটনার ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। প্রশ্ন উঠেছে—ক্যামেরা তুললেই কি আঘাত নেমে আসবে? সত্য তুলে ধরতে চাইলেই কি সহিংসতার মুখোমুখি হতে হবে?
সাংবাদিকের ওপর হামলা নিছক ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়; এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা সমাজের আয়না। সেই আয়না ভাঙার চেষ্টা মানে সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা।
সাংবাদিক উন্নয়ন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সংগঠন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে। তারা বলছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা-হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আমরাও মনে করি, অপরাধের কোনো দল বা রঙ নেই। অপরাধ মানেই অপরাধ। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় অন্যায় আরও উৎসাহিত হবে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
গণতন্ত্র তখনই অর্থবহ হয়, যখন মানুষের জানার অধিকার সুরক্ষিত থাকে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাই রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব। সত্যকে থামানো যায় না; কিন্তু সত্য বলার মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই হতে পারে এর যথাযথ প্রতিকার।
রিপোর্টার: Adminমাহবব আলম জুয়েল
ক্যাটাগরি: দেশের খবর
